জাতীয় নির্বাচন একটি দেশের রাজনৈতিক জীবনের যেমন চূড়ান্ত পরীক্ষা, তেমনি এর অর্থনৈতিক প্রভাবও সুদূরপ্রসারী ও জটিল। বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্কটি আ েবহুমাত্রিক। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রাষ্ট্র সংস্কারের যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তার সমান্তরালে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশ এক প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত্ কেবল একটি গাণিতিক পূর্বাভাস নয়, বরং এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফেরানোরও অগ্নিপরীক্ষা।
বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ-সংকট এবং ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা অর্থনীতিকে খাদের কিনারে দাঁড় করিয়েছে। ২০১৮ সালে পল রোমারের সঙ্গে অর্থনীতি বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী উইলিয়াম নর্ডহাউসের ‘পলিটিক্যাল বিজনেস সাইকেল’ তত্ত্বের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রশাসনকে জনপ্রিয়তাবাদী বা ‘পপুলিস্ট’ নীতি পরিহার করে কাঠামোগত সংস্কারের পথে হাঁটতে হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত নির্বাচনের চাপ এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘অপেক্ষা করো, দেখো’ ‘দেখি কী হয়’ চিন্তার জন্ম দিয়েছে। আসন্ন এই নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজন এবং পরবর্তী সরকারের অর্থনৈতিক দূরদর্শিতার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ কি ঋণের জালে আটকা পড়বে, নাকি সংস্কারের মাধ্যমে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে যাত্রা করবে। মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত সুযোগও বটে। তবে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতির আকাশে যে চাপা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতের অর্থনীতি কেমন হতে পারে, তা আঁচ-অনুমান করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।
বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্বাচনকালীন অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একধরনের মন্থরতা আনে, যা নর্ডহাউসের ‘অপর্চুনিস্টিক পলিটিক্যাল বিজনেস সাইকেল’ তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। এই তত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অর্থনীতিবিদ এ ডব্লিউ ফিলিপসের প্রবর্তিত ‘ফিলিপস কার্ভ’, যা মূলত মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের মধ্যে একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক নির্দেশ করে। নর্ডহাউসের যুক্তি হচ্ছে, স্বল্প মেয়াদে সরকার চাইলে বাজারে অর্থের জোগান বাড়িয়ে এবং সম্প্রসারণমূলক নীতি গ্রহণ করে বেকারত্ব কমিয়ে আনতে পারে, তবে এর বিনিময়ে অর্থনীতিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মেনে নিতে হয়। রাজনীতিকরা অত্যন্ত সচেতনভাবে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব ব্যবহার করে এই সম্পর্কের সুযোগ নেন। নির্বাচনের ঠিক আগে সাধারণ মানুষ দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, কর্মসংস্থান এবং পকেটে অর্থের জোগান। ভোটাররা যেহেতু সাধারণত নিকট অতীতের অর্থনৈতিক সাফল্যে বেশি প্রভাবিত হন এবং দূরবর্তী ভবিষ্যতের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি আঁচ করতে পারেন না, তাই শাসক শ্রেণি ফিলিপস কার্ভের সুবিধা নিয়ে তার সমর্থকদের মধ্যে কৃত্রিমভাবে বেকারত্ব কমিয়ে একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির আবহ তৈরি করেন। এই প্রক্রিয়ায় বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও পরোক্ষভাবে তা পণ্যমূল্য বৃদ্ধির বীজ বপন করে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে সরকার কৃত্রিমভাবে সুদের হার কমিয়ে দেয় কিংবা সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং ভোটারদের মধ্যে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয় যে, বর্তমান সরকার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম। কিন্তু এই কৃত্রিম চাঙাভাব স্থায়ী হয় না।
নর্ডহাউসের তত্ত্ব অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর যখন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ফিলিপস কার্ভের সেই অমোঘ নীতি অনুযায়ী উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতিতে আঘাত হানে। মুদ্রাস্ফীতি যখন অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়, তখন সরকারকে বাধ্য হয়ে সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করতে হয়, যা আবার বেকারত্ব বাড়িয়ে দেয় এবং প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দেয়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই প্রভাব আরো প্রকটভাবে দেখা যায়, কারণ সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা সীমিত থাকে এবং সরকার তার রাজনৈতিক স্বার্থে মুদ্রানীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পায়। বাংলাদেশেও নির্বাচনের আগে বড় বড় বাজেটের প্রকল্প অনুমোদন বা সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো হয়, যা নির্বাচনের পরবর্তী কয়েক মাসে চরম দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভোটারদের এই যে ‘মায়োপিক’ বা ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন আচরণ, যেখানে তারা তাত্ক্ষণিক লাভ দেখে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা ভুলে যান, তার ওপর ভিত্তি করেই নর্ডহাউসের এই পলিটিক্যাল বিজনেস সাইকেল আবর্তিত হয়। পরিশেষে, ফিলিপস কার্ভ এখানে কেবল একটি গাণিতিক রেখা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়, যেখানে মুদ্রাস্ফীতিকে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের জন্য জমিয়ে রাখা হয়, যাতে নির্বাচনের আগে একটি কৃত্রিম স্বর্গীয় অর্থনৈতিক পরিবেশ ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা যায়।
তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘রিভার্স ইলেক্টোরাল ইনভেস্টমেন্ট সাইকেল’ তত্ত্বটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যা নির্দেশ করে যে, নির্বাচনজনিত নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের ‘খরচযোগ্য-অপরিবর্তনীয়’ বিনিয়োগ (যেমন যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো) স্থগিত রাখতে বাধ্য করে, ফলে মোট দেশজ উত্পাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ স্টিফেন হ্যাগগার্ড, রবার্ট কফম্যানের উত্তর-বিপ্লব অর্থনীতি বিষয়ক এই তত্ত্ব বলে যে, তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা বা শাসনের আমূল পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিক ‘পলিটিক্যাল বিজনেস সাইকেল’ উলটে যায়। সাধারণত নর্ডহাউসের তত্ত্ব অনুযায়ী নির্বাচনের আগে বিনিয়োগ ও ব্যয় বাড়ে, কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে এর ঠিক বিপরীত চিত্র বা ‘রিভার্স সাইকেল’ দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থনীতিতে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রথমত বিনিয়োগভীতি। প্রবল রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন কোনো প্রকল্প শুরু করতে ভয় পাচ্ছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার না আসা পর্যন্ত তারা দীর্ঘমেয়াদি মূলধন বিনিয়োগ স্থগিত রেখেছেন।
দ্বিতীয়ত, সংস্কার বনাম পপুলিজম। বর্তমান সরকার নির্বাচনি জনপ্রিয়তার চেয়ে কাঠামোগত সংস্কারকে যেমন ব্যাংকিং খাত ও দুর্নীতি দমন প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে নর্ডহাউসের তত্ত্বের মতো কৃত্রিম অর্থপ্রবাহ না বেড়ে বরং কঠোর তদারকির কারণে বাজার থেকে উদ্বৃত্ত অর্থ কমে গেছে। তৃতীয়ত, অনিশ্চয়তার চক্র। ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ব্যবসায়ীরা আমদানিতে সতর্ক হয়ে গেছেন, যা শিল্প উত্পাদন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে সংকুচিত করছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, যেখানে স্বাভাবিক নির্বাচনে সরকার ভোট কিনতে খরচ বাড়ায়, বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক পালাবদলের আশঙ্কায় বিনিয়োগ কমে গিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়েছে, যা ‘রিভার্স ইলেক্টোরাল ইনভেস্টমেন্ট সাইকেল’-এর সত্যতা তুলে ধরছে। উল্লিখিত দুটি তত্ত্বের সম্মিলনে বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসের নির্বাচনি ব্যয় ও অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দ্বিমুখী চিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বাজেট, নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন, প্রচারণা ইত্যাদিতে বিপুল সরকারি ও বেসরকারি ব্যয় চাহিদা সৃষ্টি করে, যা স্বল্প মেয়াদে বিশেষ কিছু খাতকে যেমন পরিবহন, খাদ্য, মুদ্রণ চাঙা করে। অন্যদিকে এই ব্যয় মৌলিক অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য যেমন বাণিজ্য, মুদ্রাস্ফীতি আরো গভীর করতে পারে।
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, কেমব্রিজ, অক্সফোর্ডের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কম রাজনৈতিক উন্নয়ন ও নিম্ন গণতান্ত্রিক সুশাসনযুক্ত দেশগুলোতে নির্বাচনি সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাজস্বনীতি বিপর্যয়ের ঝুঁকি বেশি থাকে। বাংলাদেশেও অতীতের বেশ কয়েকটি নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতিতে ওঠানামা, কর আদায়ে ভাটা এবং বেসরকারি বিনিয়োগে মন্থরতা লক্ষ করা গেছে, যা এই তত্ত্বগুলিকে সমর্থন করে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট বেশ জটিল। কেননা বাংলাদেশের অর্থনীতি রেমিট্যান্স হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ-সংকট, ঊর্ধ্বমুখী মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার মতো গভীর সংকটে রয়েছে। এই সংকট আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, কোভিড, ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব থেকে সৃষ্টি হলেও অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ঘাটতি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়নের অভাবে তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন এক ক্রান্তিকালে নির্বাচন যদি রাজনৈতিক বৈধতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ‘বিপরীত নির্বাচনি বিনিয়োগ চক্র’ আরো শক্তিশালী হয়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
বিশেষ করে, বৈদেশিক ও স্থানীয় উত্পাদনশীল বিনিয়োগ নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে আরো পিছিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপ্রবাহও এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সমীকরণকে প্রভাবিত করছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে রাজনীতির ধারাবাহিকভাবে দ্বি-মেরুকরণ এবং একটি ‘প্রভাবশালী দলীয় রাষ্ট্র’-এর উদ্ভবের ফলে সংসদীয় জবাবদিহি ও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের জায়গা সংকুচিত হয়ে গণতান্ত্রিক পরিসর দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক সুশাসন, দুর্নীতি দমন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সকে দুর্বল করে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের টেকসই সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত্ শুধুই হুমকির মুখে নেই; এতে সম্ভাবনাও নিহিত রয়েছে। নতুন সরকার যদি নির্বাচনপরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করে, তাহলে উলটো দিকের যাত্রা সহজ হতে পারে। অর্থাত্ একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পর যদি দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ, কর আদায়ের ব্যাপক সংস্কার এবং মুদ্রানীতি-রাজস্ব নীতির সমন্বয় সাধন করা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশের মধ্যগগনে অবস্থানের ফলে শিল্পায়ন ও রপ্তানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মনে রাখতে হবে, অতীতে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতার লোভে কেইনসীয় তত্ত্ব ব্যবহার করে, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করে স্বল্প মেয়াদে চাহিদা সৃষ্টি করে মিথ্যা উন্নতির ছবি এঁকেছিল। কিন্তু নোবেলজয়ী রবার্ট সলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি মডেল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি, যা শুধু একটি স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশেই সম্ভব।













