Wednesday, 21 October 2026
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • গোপনীয়তার নীতি
  • যোগাযোগ
  • লগইন
  • রেজিস্টার
Muldhara - Bangla Daily
Advertisement
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • জাতীয়
  • অর্থনীতি
  • সারাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধুলা
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • অন্য খেলা
  • বিনোদন
  • জবস
  • বাণিজ্য
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • শিক্ষা
    • স্বাস্থ্য
কোন নিউজ পাওয়া যায়নি
সমস্ত নিউজ দেখুন
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • জাতীয়
  • অর্থনীতি
  • সারাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধুলা
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • অন্য খেলা
  • বিনোদন
  • জবস
  • বাণিজ্য
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • শিক্ষা
    • স্বাস্থ্য
কোন নিউজ পাওয়া যায়নি
সমস্ত নিউজ দেখুন
Muldhara - Bangla Daily
কোন নিউজ পাওয়া যায়নি
সমস্ত নিউজ দেখুন
প্রচ্ছদ জাতীয়

দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান

কর্নেল আহসান হাবীব, পিএসসি, জি+

Muldhara পোস্ট করেছেন Muldhara
November 21, 2025
মধ্যে জাতীয়
0
দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান

২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত আক্রমণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক অভিযান পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।

0
শেয়ার
15
দেখেছেন
Share on FacebookShare on Twitter

১৯৭১ সালে ৯ মাস দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে একটি নতুন দেশ হিসেবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আবির্ভাব হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় গঠিত হয় এ দেশের সশস্ত্র বাহিনী। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর একটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানিরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করে, যা আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত আক্রমণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক অভিযান পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বীরত্বগাথা ও ত্যাগের ইতিহাসকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ রাখার অভিপ্রায়ে ১৯৮৬ সালে প্রথম বারের মতো ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়। এর পর থেকে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে একযোগে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক সামরিক অভিযানের নামে নিরীহ বাঙালিদের ওপর অস্ত্রসহ ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর প্রত্যুত্তরে, তদানীন্তন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে কর্মরত পূর্ব পাকিস্তানের সেনা সদস্যগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিকামী জনসাধারণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং সশস্ত্র পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত বাঙালি সেনা সদস্যগণ ইপিআর, আনসার ও মুক্তিকামী সাধারণ জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১২ এপ্রিল ১৯৭১ সালে কর্নেল (অব.) এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঙালি সেনাসদস্যদের তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং তাদের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়। কর্নেল ওসমানী মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর শক্তিশালী মুক্তিবাহিনী তথা সামরিক বাহিনী গঠন করার লক্ষ্যে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের রণকৌশলগত এবং অস্ত্র প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ১১টি সেক্টরের মধ্যে ৬ নম্বর সেক্টর এবং ১০ নম্বর সেক্টর ছাড়া অবশিষ্ট ৯টি সেক্টরের নেতৃত্বের ভার দেওয়া হয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত এবং চৌকশ কর্মকর্তাদের কাঁধে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই দুই মাসের জন্য ১১ নম্বর সেক্টরকে নেতৃত্ব দেন স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ।

১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং বাঙালি মুক্তিবাহিনীর মধ্যকার সামরিক যুদ্ধটি ছিল একটি অসম সামরিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ছিল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, সাঁজোয়া যান, ভারী কামান, অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় সামরিক অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ; অন্যদিকে যুদ্ধের প্রারম্ভে মুক্তিবাহিনীর কাছে ছিল না কোনো যুদ্ধবিমান, সাঁজেয়া যান, ভারী কামান, উল্লেখযোগ্য কোনো সামরিক অস্ত্র কিংবা পর্যাপ্তসংখ্যক গোলাবারুদ। এই অসম যুদ্ধে জয়লাভ করার লক্ষ্যে নির্ভীক সেক্টর কমান্ডারগণ মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গেরিলা যুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল অতর্কিত গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে দখলদার হানাদার বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, যুদ্ধাস্ত্র, রসদ সরবরাহ, কমিউনিকেশন সেন্টার ইত্যাদি ধ্বংসের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করে তাদের মনোবল দুর্বল করে দেওয়া এবং পাশাপাশি সম্ভব হলে যুদ্ধাস্ত্র ও রসদভান্ডারের সামগ্রী দখল করে নেওয়া, যা পরবর্তীকালে মুক্তিবাহিনীর বিজয় লাভের সোপান হিসেবে কাজ করবে।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছোট ছোট চোরাগোপ্তা হামলার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য ক্ষতিসাধনে সক্ষম হয় এবং তাদের নিজস্ব রসদভান্ডারও সমৃদ্ধ করতে সমর্থ হয়। সময়ের পরিক্রমায় প্রথাগত সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে তিন জন কমান্ডারের নামের আদ্যাক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে এস ফোর্স, কে ফোর্স এবং জেড ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড সাইজ ফোর্স গঠন করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানিদের বলিষ্ঠ আভিযানিক নেতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে থেকে মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে তাদের রণকৌশল এবং অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া, বিজয়ের আগ পর্যন্ত হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক অবকাঠামো প্রস্তুত করা, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব প্রদান, রণকৌশলগত প্রতিরোধের মাধ্যমে সমন্বিত লড়াই করাসহ প্রতিটি পর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ ও নিরলস প্রচেষ্টাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রাহুগ্রাস থেকে আমাদের এনে দিয়েছে স্বাধীনতার লাল সূর্য। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অদম্য সাহসিকতা প্রদর্শন এবং অনবদ্য ভূমিকা পালনের জন্য সেনাবাহিনীর ২৮৮ জন সদস্যকে বিভিন্ন বীরত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নৌবাহিনীর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত থেকে প্রাপ্ত দুইটি টহল জাহাজ ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ এবং ৪৯ জন নাবিক নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। নৌবাহিনীর অকুতোভয় কমান্ডোগণ ১৫ আগস্ট ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর মাধ্যমে একযোগে দেশের প্রধান নৌবন্দরগুলোতে আক্রমণ করে ২৬টি পাকিস্তানি জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়ে সমুদ্র ও নদীপথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তারা দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় এলাকা নিয়ে গঠিত ১০ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ পরিচালনা করে। এছাড়া নৌ-গেরিলা বাহিনী অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌপথে পরিচালিত সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে। তাদের দুঃসাহসিক অভিযানের ফলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নৌপথে তাদের যুদ্ধ সরঞ্জামাদি এবং রসদ পরিবহনে ব্যর্থ হয়, যা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাধীনতাযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের জন্য নৌবাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন বীরত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধের শুরুতে মুক্তিবাহিনীর কাছে কোনো যুদ্ধবিমান ছিল না। তথাপি মোট ৩৫ জন অফিসার ও ক্যাডেট এবং আনুমানিক ৫০০ জন বিমান সেনা পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত থেকে প্রাপ্ত আমেরিকার তৈরি একটি পুরোনো ডিসি-৩ বিমান, কানাডার তৈরি একটি অটার বিমান এবং ফ্রান্সের তৈরি একটি অ্যালুয়েট-৩ হেলিকপটারের বহর নিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এসব বিমান পরিচালনার জন্য ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটি পরিত্যক্ত রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক গ্রুপ-ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিমান বাহিনী গঠনের বিষয়টি গোপন রাখার লক্ষ্যে এর গুপ্ত নাম দেওয়া হয় ‘কিলো ফ্লাইট’। অল্প কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে এই তথ্য জানানো হয়নি। বিভিন্ন সেক্টরে যুদ্ধরত ৫৮ জন বিমানসেনা কিলো ফ্লাইটে যোগ দেন। এই ফ্লাইটের নেতৃত্ব দেওয়া হয় স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদকে। কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও লালমনিরহাট এলাকায় সাফল্যের সঙ্গে মোট ৫০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিমান বাহিনীর মোট ২৩ জন সদস্যকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মলাভ করা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে দেশ রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। বিশ্বের ভাতৃপ্রতিম প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের পেশাগত দক্ষতার উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। শুধু বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষাই নয়; বরং অভ্যন্তরীণ যে কোনো ক্রান্তিলগ্নেও দেশমাতৃকার সেবায় সদা নিয়োজিত আমাদের সশস্ত্র বাহিনী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশ গঠনেও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার। ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ দেশকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষায় নিরলস প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার নিমিত্তে সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ; যেমন—বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদিতে ত্রাণ ও চিকিত্সা-সহায়তা প্রদানসহ উদ্ধারকাজে মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’—এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে জনবল প্রেরণের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিকা পালনের পাশাপাশি শান্তিরক্ষী মিশন থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সেনাসদস্যগণ বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর চৌকশ ইঞ্জিনিয়ার দল দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ তৈরিসহ বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়নমূলক কাজে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। দেশের দক্ষিণ অংশ জুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এই বিশাল জলরাশির নিরাপত্তা বিধানে সর্বদা প্রস্তুত বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ‘শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়’—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত নৌবাহিনীর সদস্যগণ দেশের বিস্তীর্ণ নৌপথে যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও জনগণের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর মতো নৌবাহিনীও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণ করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

সেনা ও নৌবাহিনীর মতোই দেশের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বিমান সেনাগণ দেশের আকাশ বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষায় সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিমান বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিমান বাহিনী নিয়মিতভাবে ত্রাণ, চিকিত্সা-সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশ; যেমন—নেপাল, শ্রীলঙ্কা, জাপান, তুরস্ক ইত্যাদির প্রাকৃতিক দুর্যোগে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ মানবিক সহায়তা প্রদান করে বিশ্বপরিমণ্ডলে দেশবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাতীয় পর্যায়ের বেশ কিছু লোকসানি প্রতিষ্ঠান; যেমন—বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড ইত্যাদির দায়িত্ব নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে অসহায় ভূমিহীন মানুষের মধ্যে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া প্রশংসার দাবিদার।

সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের নিরাপত্তা, আস্থা, ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাসংগ্রামের সূচনালগ্ন থেকে অদ্যাবধি দেশের সব প্রয়োজনে দেশমাতৃকার আজ্ঞাবহ হয়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণই মুক্তিযুদ্ধের গতিপথ পালটে দিয়েছিল, যার চূড়ান্ত রূপ হলো ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয়। দেশপ্রেমের মহান আদর্শকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন যাত্রার সহযোগী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ রেখে যাব’—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।

ট্যাগস: ২১ নভেম্বরদৈনিক মূলধারাবাংলাদেশ নৌবাহিনীবাংলাদেশ বিমানবাহিনীবাংলাদেশ সেনাবাহিনীমহান স্বাধীনতা যুদ্ধসশস্ত্র বাহিনী দিবস
আগের নিউজ

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে জাতির প্রহরীদের শুভেচ্ছা

পরের নিউজ

রাঙ্গুনিয়ায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ ইটভাটা

Muldhara

Muldhara

পরের নিউজ
রাঙ্গুনিয়ায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ ইটভাটা

রাঙ্গুনিয়ায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ ইটভাটা

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • আলোচিত
  • কমেন্টস
  • সর্বশেষ
যশোরে দিনেদুপুরে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

যশোরে দিনেদুপুরে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

February 20, 2025
সিএণ্ডএফের `লীগ-আসাদের’ দালালি-দুর্নীতি

সিএণ্ডএফের `লীগ-আসাদের’ দালালি-দুর্নীতি

December 14, 2025
রুয়াপ নির্বাচন স্থগিত, কবে হবে ভোট?

রুয়াপ নির্বাচন স্থগিত, কবে হবে ভোট?

October 17, 2025
সরকার গ্রুপ মাতালো টেবিল টেনিসে

সরকার গ্রুপ মাতালো টেবিল টেনিসে

December 17, 2025
ইতিহাস গড়তে ভোট দিচ্ছেন মার্কিনরা

ইতিহাস গড়তে ভোট দিচ্ছেন মার্কিনরা

0
পুলিশি অভিযানে গতি এসেছে

পুলিশি অভিযানে গতি এসেছে

0
জয়ের পথে ট্রাম্প!

জয়ের পথে ট্রাম্প!

0
জলবায়ু পরিবর্তন: ভবিষ্যৎ এবং করণীয়

জলবায়ু পরিবর্তন: ভবিষ্যৎ এবং করণীয়

0
বিইইউ পেলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি, প্রশিক্ষণ শুরু

বিইইউ পেলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি, প্রশিক্ষণ শুরু

October 14, 2026
বসুন্ধরায় নির্মাণ খাতের মানোন্নয়নে মতবিনিময়

বসুন্ধরায় নির্মাণ খাতের মানোন্নয়নে মতবিনিময়

October 5, 2026
বিইইউ : বসুন্ধরা ইঞ্জিনিয়ারদের নতুন নেতৃত্ব

বিইইউ : বসুন্ধরা ইঞ্জিনিয়ারদের নতুন নেতৃত্ব

October 1, 2026
রাজনীতিতে ‘আত্মজিজ্ঞাসা’ কেন প্রয়োজন

এত শিশু কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে?

September 27, 2026

সাম্প্রতিক খবর

বিইইউ পেলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি, প্রশিক্ষণ শুরু

বিইইউ পেলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি, প্রশিক্ষণ শুরু

October 14, 2026
বসুন্ধরায় নির্মাণ খাতের মানোন্নয়নে মতবিনিময়

বসুন্ধরায় নির্মাণ খাতের মানোন্নয়নে মতবিনিময়

October 5, 2026
বিইইউ : বসুন্ধরা ইঞ্জিনিয়ারদের নতুন নেতৃত্ব

বিইইউ : বসুন্ধরা ইঞ্জিনিয়ারদের নতুন নেতৃত্ব

October 1, 2026
রাজনীতিতে ‘আত্মজিজ্ঞাসা’ কেন প্রয়োজন

এত শিশু কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে?

September 27, 2026
Facebook Twitter Youtube RSS
muldhara logo

Daily Muldhara - Reliable Source for News & Opinion.

আমাদের সাথে থাকুন

গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ

  • News Special
  • Uncategorized
  • অর্থনীতি
  • আইন-আদালত
  • আন্তর্জাতিক
  • উপসম্পাদকীয়
  • কৃষিজ
  • ক্রাইম
  • খেলাধুলা
  • চিঠিপত্র
  • জাতীয়
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  • ধর্মকর্ম
  • পরিবেশ
  • পাঠকের অভিমত
  • প্রজন্মের চোখ
  • ফিচার
  • বাণিজ্য
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • মতামত
  • রাজনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • শিক্ষা
  • সংগঠন
  • সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  • সম্পাদকীয়
  • সম্পাদকীয়
  • সর্বশেষ
  • সারাদেশ
  • সাহিত্য
  • সাহিত্যাঙ্গন
  • স্বাস্থ্য

ঠিকানা

H-G/44, Block-G, Road: E/1, Eastern Housing, 2nd Phase, Rupnagar, Dhaka-1216, Bangladesh.

© 2025-2026 দৈনিক মূলধারা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password? Sign Up

Create New Account!

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
কোন নিউজ পাওয়া যায়নি
সমস্ত নিউজ দেখুন
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • জাতীয়
  • অর্থনীতি
  • সারাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধুলা
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • অন্য খেলা
  • বিনোদন
  • জবস
  • বাণিজ্য
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • শিক্ষা
    • স্বাস্থ্য

© 2025-2026 দৈনিক মূলধারা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত