জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (উষা) উদ্যোগে রাজধানীর রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (রুয়াপ) ১৮ নম্বর সেক্টরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রুয়াপ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহসভাপতি কৃষিবিদ আহমেদ আলী চৌধুরী ইকবালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক ফাইজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় রুয়াপের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রুয়াপ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, জুলাই সংহতি পরিষদ, তুরাগ থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, রুয়াপ সিনিয়র সিটিজেনস সোসাইটি, রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক-এ মালিক কল্যাণ সমিতি, রুয়াপ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, নারী সংগঠন কাশফুল পরিবার রুয়াপ ও রুয়াপ নারী কল্যাণ সমিতি, (রুনাক্স), রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট ফ্ল্যাট মালিক সমবায় সমিতি লি., রুয়াপ কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি, রুয়াপ সনাতন সমাজ মন্দির কমিটি, রুয়াপ কনভেনশন হল মার্কেট পরিচালনা কমিটি, রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তব্য রাখেন ব্লক-এ মালিক কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি এসএম আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ, কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জানে আলম চৌধুরী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আহব্বায়ক কৃষিবিদ ড. আব্দুল মালেক তালুকদার, রুনাক্স সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আক্তার ময়না, বিএনপি নেতা খোকন ভাই, তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমাস উদ্দিন, আহ্বায়ক মো. আমান ভূঁইয়া প্রমুখ।
‘গাছ লাগাই, জীবন বাঁচাই’—এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন
প্রধান অতিথি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথমে রুয়াপ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তিনি সবুজ বনায়ন এলাকা ও রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, একটি দেশের মোট ভূমির প্রায় ৩০ শতাংশ সবুজ বনায়নের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দেশে বনায়নের পরিমাণ ৭-৮ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজধানী ঢাকায় এর পরিমাণ আরও কম। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় রুয়াপবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। পর্যায়ক্রমে রুয়াপে পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ, গণপরিবহন চালুর ব্যবস্থা, সিনিয়র সিটিজেনদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, স্থায়ী কবরস্থান নির্মাণ, সরকারি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং রুয়াপ থেকে নিকটস্থ মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য। তিনি রুয়াপবাসীর যাবতীয় সমস্যা নিয়ে আলাদাভাবে মতবিনিময়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আলোচনাসভায় উত্তরা সেক্টর-১৮ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ( উষা) পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে রুয়াপ স্মৃতিস্তম্ভ থেকে রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘গাছ লাগাই, জীবন বাঁচাই’ স্লোগান দেন। পরে রুয়াপ কনভেনশন হল মার্কেট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মার্কেটের নেতৃবৃন্দ এমপি মহোদয়কে স্বাগত জানান। সেখানেও তিনি বৃক্ষরোপণ করেন। সেখানে সম্মানিত অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন, আলোচনাসভা ও র্যালির আয়োজক ও সহযোগিতা প্রদানকারী ব্লক- এ মালিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং রুয়াপকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।














