ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানি এলাকায় এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পথরোধ, মোটরসাইকেলে ধাওয়া, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা এবং চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে হত্যার অপচেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় আহত হয়ে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. উমর ফারুক। তিনি মরহুম মো. ইউনুচ আলীর ছেলে। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানি ডাকঘরের শালিয়া গ্রামে।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি নিজ মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহ শহরের দিকে রওনা হন। পথে হলিধানি বাজার এলাকায় পৌঁছালে রামচন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুর ছেলে মো. মশিয়ার, তার মা সাবেক ইউপি সদস্য জাহানারা, কনেজপুর গ্রামের মো. খইবার, খইবারের ছোট ভাইসহ আরও ৩ থেকে ৪ জন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। পরে তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার চেষ্টা করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে আঠারো মাইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে অভিযুক্তদের আরও দুই সহযোগী অবস্থান করছিল। তিনি মোটরসাইকেল না থামিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয়। তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। তবে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘর্ষণে পা ঝলসে যায়। পরে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে মো. মশিয়ার ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়াচ্ছে। এমনকি তার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও খোঁজাখুঁজি করছে বলে তিনি দাবি করেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. মশিয়ার হলিধানি বাজারে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা করেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় অসহায় মানুষের কাছে উচ্চ সুদে টাকা ধার দেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা বা সুদ পরিশোধ করতে না পারলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, মো. মশিয়ার তার আপন বোনের স্বামী। তার বাবা ব্রেন স্ট্রোকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সুযোগে সরকারি জমিতে অবস্থিত তার বাবার একটি দোকান কৌশলে তার বোনের নামে লিখে নেন। তিনি এর প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর থেকেই তাকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার বোনকেও তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।














