সসরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উঠতে পারে। অনুমোদন হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, নতুন পে স্কেলের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতিও রয়েছে। এর আগে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, নতুন বেতন কাঠামোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও নবম বেতন কমিশন ঘোষণার কাজ চলার কথা জানিয়েছিলেন।
নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ দিতে ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে সুপারিশ জমা দিয়েছে। এতে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। দুই ধাপে এটি কার্যকরের সুপারিশ করা হয়েছে—প্রথম বছরে মূল বেতন এবং পরের বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা।
৭ম গ্রেডে ৫৮ হাজার–১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০, ৮ম গ্রেডে ৪৭ হাজার ২০০–১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০, ৯ম গ্রেডে ৪৫ হাজার ১০০–১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ এবং ১০ম গ্রেডে ৩২ হাজার–৭৭ হাজার ৩০০ টাকা হতে পারে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব রয়েছে
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে। ২য় থেকে ১০ম গ্রেডে সম্ভাব্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এসব অঙ্ক চূড়ান্ত নয়।
এদিকে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত ই-বুকেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি এবং পেনশন-গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।













