আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে চমক আসছে! এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি নিয়ে হাজির হয়েছেন ড. শামীম হামিদী। মঠবাড়িয়ার মানুষকে ড. শামীম এমন এক নতুন ভবিষ্যতের গল্প শোনাতে আসছেন, যেখানে রাজনীতি হবে নৈতিক, উন্নয়ন হবে বাস্তব, আর নেতৃত্ব হবে ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক।
ড. শামীম হামিদী একজন শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, গবেষক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় মুখ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষা, গবেষণা, নৈতিক রাজনীতি ও মানবিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম (UTF)-এর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. শামীম হামিদীর জন্ম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ঐতিহাসিক সাফা বন্দরে এক আলোকিত ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর দাদা আব্দুল হাকিম হামিদী ছিলেন সাফা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাফা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম—যিনি এলাকায় `ইমাম সাহেব হুজুর‘ নামে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন; ছিলেন শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত। পিতা হাফেজ শহীদুল্লাহ হামিদী ছিলেন শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং একই মসজিদের ইমাম। তিনি তার সারাটা জীবন মানুষকে শিক্ষা, নৈতিকতা ও সেবার পথে পরিচালিত করতে কাজ করে গেছেন।

এই শিক্ষামূলক ও ধর্মভীরু পরিবেশে বেড়ে ওঠা ড. শামীম হামিদীর শৈশব-কৈশোর কেটেছে তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি মঠবাড়িয়ায়। স্থানীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম, নদী-নির্ভর সমাজ এবং উপকূলীয় বাস্তবতা শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে গড়ে তোলে মানবিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের পথচলার বীজ।
ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ড. শামীম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার International Islamic University Malaysia (IIUM)-এ যান এবং ২০১৮ সালে সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের Sociology & Anthropology বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনা, সামাজিক উদ্যোগ ও সেবামুখী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে কাজ, সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত থাকা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং বিএনসিসির মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর শক্তিতে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন শক্তভাবে।
বিদেশ থেকে ফিরে ড. শামীম শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কাজে ব্রত হন। শুরু করেন নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজ। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল, মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা। সাফা বন্দর ও তুষখালী বাজারে ইসলামী ব্যাংকের দুই দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা প্রতিষ্ঠা করে তিনি স্থানীয় মানুষের আর্থিক সেবায় উন্মোচন করেন এক নতুন দিগন্ত। সামাজিক সংগঠন `ব্লাডওয়ালা বাংলাদেশ‘-এর সভাপতি হিসেবে অসংখ্য রোগী, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষ এবং বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন এই জনদরদি মানুষটি ।
মঠবাড়িয়ার প্রতি তাঁর হৃদয়ের টান, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নতুন সমাজ গড়ে তুলতে চান। একটি শিক্ষাভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে। ড. শামীম হামিদী বিশ্বাস করেন—মঠবাড়িয়ার উন্নয়ন হবে সৎ নেতৃত্ব, আধুনিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ ও সেবামুখী প্রশাসনের ভিত্তিতে।













