বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সর্বশেষ স্বাধীন নবাব নবাব সিরাজউদ্দৌলার ২৬৯তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গত ২ জুলাই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেছে নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা পরিষদ (এনএসএসপি)। সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, খতমে কোরআন, স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাঁর বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মীরজাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদ আলী বেগ নির্মমভাবে হত্যা করে। তাঁর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে বিদেশি শাসনের পথ সুগম হয়। তাই নবাব সিরাজউদ্দৌলার আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় নয়, বরং স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার এক অনন্য প্রেরণা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনএসএসপির প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, উপদেষ্টা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. শেখ আকরাম আলী, চেয়ারম্যান, নবাব সিরাজউদ্দৌলার নবম রক্তধারা প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব (নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা), ভাইস চেয়ারম্যান নবাব সিরাজউদ্দৌলা গবেষক অধ্যাপক ড. রমিত আজাদ, মহাসচিব লেখক ও সাংবাদিক ফাইজুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, প্রচার-প্রচারণা সম্পাদক ও মুখপাত্র সাংবাদিক ফারহানা নীলা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে গবেষণা, স্মরণানুষ্ঠান এবং ইতিহাসভিত্তিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা জাতির ইতিহাস ও স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই উপমহাদেশে নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্মদিন পালিত হলেও শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়না। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হলো।













