দেখতে দেখতে চলে গেলো ২০২৫ সাল। দিনগুলো যেন রকেট গতিতে যাচ্ছে। এখনও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শব্দ কানে বাজে, এখনও ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চোখে ভাসে। অথচ দিন গত হতে হতে ২০২৬ সালে এসে পৌঁছালাম আমরা। আরেকটি ফুটবল বিশ্বকাপ, আরেকটি নতুন সরকার নির্বাচনের ভোট, আরেকটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ, সবকিছুই যেন পাচ্ছি এ বছর।
বিদায়ী বছরের আলোচনা করতে গেলে— প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, হাসি-কান্না সবই আসে হিসেবের খাতায়। নানান আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সাল বিদায় নিয়েছে। তবে যা গিয়েছে তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করার সুযোগ নাই। কারণ নতুন বছর মানে নতুন করে সব শুরু করা। নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে আসল কাজ। নতুন বছরে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়েই আমাদের কাজ করা উচিত।
একজন তরুণ হিসেবে আমার কাছে নতুন বছর মানেই নতুন কিছু। তাই আমার প্রত্যাশার পাল্লাটাও একটু ভারী। আমরা যখন নতুন কিছু নিতে যাই, তখন সবসময় ভালোটাই চাই। আমরা সবসময় পুরাতন জিনিসটার চাইতে আরো আপডেট এবং ভালো জিনিসটাই খুঁজি এবং সেটাই নিই। ঠিক সেভাবে ২০২৫ সালের সব ভুল-ভ্রান্তি ভুলে গিয়ে আমরা পেতে চাই আরো সুন্দর এবং সাজানো গোছানো একটি বছর। বছরটির শুরুতেই প্রয়োজন পরিকল্পনা। আমরা জানি পরিকল্পনা ছাড়া কিছুই সঠিকভাবে সফল করা যায় না। তাই নতুন বছরটা শুরু করতে হবে সুন্দর পরিকল্পনা দিয়ে। আর এই পরিকল্পনায় থাকতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। সঠিক সিদ্ধান্তের কথা এ কারণেই বলছি, নতুন বছরের শুরুতেই আছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোট। সেদিনই বাংলাদেশের মানুষ পাবে নতুন এক সরকার। তাই নতুন বছর নতুন সরকার বেছে নেওয়ার সঠিক সিদ্ধান্ত আমাদের তরুণদের নিতে হবে। এতে দেশ ও জাতি নতুনভাবে এগিয়ে যাবে।
নতুন বছর নির্বাচনে যে দলই সরকার গঠন করে না কেন, তরুণদের নিয়ে সোনার বাংলা সাজাতে হবে সরকারকে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই তরুণদের সঙ্গে নিয়ে এগুতে হবে। সেইসাথে বেকার তরুণ যুবকদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে নতুন বছরেই। আমি বিশ্বাস করি- এবারের নতুন বছরটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন স্বপ্নের সিঁড়ি। সেই সিঁডি বেয়ে এগুতে হবে আমাদের সকলের।
শুধু তা-ই নয়, আমাদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, একটা দেশের মূল চালিকাশক্তি এবং ভবিষ্যৎ হচ্ছে তরুণরাই। জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলো এই তরুণরাই। দেশকে অবারিত দুর্নীতি আর জুলুমের বিস্তার থেকে এই তরুণরাই রক্ষা করেছে। সুতরাং তরুণদের সঙ্গে নিয়েই দেশ গঠন করতে হবে।
নতুন বছর, নতুন সরকার এসে অনেক কাজ করবে সেই প্রত্যাশা আমরা রাখি। তরুণদের প্রয়োজনীয় বিষয়ের একটা হচ্ছে বেকারত্ব দূর করা, সেটা নিয়ে ইতোমধ্যে উপরে আলোচনা করেছি। এছাড়া আমাদের দেশে আজ খেলার মাঠের বড় সঙ্কট। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ খেলতে পছন্দ করে। অবসর সময়ে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার অন্যতম উপায় খেলাধুলা। অথচ একের পর এক মাঠের জায়গা বেদখল হয়ে গড়ে উঠছে দালানকোটা। এটা একটা দেশের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি বলে মনে করি আমি। তাই তরুণদের জন্য প্রতিটি এলাকায় একটি করে উন্মুক্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে দিতে হবে আগামীর সরকারকে। আমাদের মনে রাখতে হবে মাদকের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে চাইলে খেলার মাঠের বিকল্প নেই। আমরা যদি আশপাশে লক্ষ করি, তাহলে দেখতে পাব তারাই ভালো আছে যারা খেলাধুলা করে। আসুন আমরা এবার ভোট দেওয়ার আগে নেতার কাছ থেকে ওয়াদা নিই, আমাদের তরুণদের দাবি কারা পূরণ করবে। যারা কথা দিবে, যারা ওয়াদা করবে আমরা তাদেরকেই ভোট দিব। খেলাধুলার মাঠ, বেকারদের চাকরি তরুণদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি আসনে আসনে তরুণরা তাদের জনপ্রতিনিধিদের এসব বিষয়ে শক্তভাবে উপস্থাপন করতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ হবে বেকারমুক্ত। পাশাপাশি খেলাধুলার মাঠের অভাবে কোনো তরুণ আর নষ্ট হবে না, মাদকের সংস্পর্শে যাবে না।
তাছাড়া আমাদের দেশে বর্তমানে মাদকের ছড়াছড়ি। না চাইতেই মাদক এখন হাতের কাছে চলে আসে। যেকেউ চাইলেই এখন মাদক সংগ্রহ করতে পারে। ইয়াবা থেকে শুরু করে গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এখন হাতের নাগালে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সমাজে ভালো মানুষের মুখোশ পরে আড়ালে মাদকের ব্যবসা করাটাই এখন অনেকের আদর্শ, যা আমরা খালি চোখে দেখি না। তবে যারা দেখি তারাও বলতে পারি না ভয়ে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো দক্ষ হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। আগামীর সরকার এসে মাদকের আগ্রাসন রুখতে কঠোর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস রাখি।
এছাড়াও আমাদের দেশে সড়ক দূর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গি হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন যেন সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিযোগিতা হয়, বিগত ১৬/১৭ বছর এটি ক্রমশই বেড়েছে। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হচ্ছে শুধুমাত্র সড়কেই। তাই নতুন বছরে, নতুন সরকারের কাছে অন্যতম প্রত্যাশা হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনা রোধে কাজ করা। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে আগামীর সরকারের কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন বছরটি যেন সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমে যায় সেই প্রত্যাশা রাখছি।
পরিশেষে বলতে চাই, তারুণ্যের চাওয়া এবং প্রত্যাশাগুলো যেন প্রাপ্তি দিয়ে পূরণ হয়। তবেই দেশ এবং দেশের মানুষ উপকৃত হবে। নতুন বছর আমরা তরুণরাও যেন- একটি সুন্দর মনের জনপ্রতিনিধিকে ভোট দিই এবং একটা সঠিক দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসি সেই চাওয়াটাই রইলো। পাশাপাশি যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তরুণদের এসব চাওয়াকে পূরণ করার অঙ্গিকার নিয়ে সরকার গঠন করবে আমার বিশ্বাস।













