রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান শক্তি হচ্ছে কর্মী এবং সমর্থকরা। যে দলের কর্মী এবং সমর্থক যত বেশি, সেই দলই শক্তিশালী এবং তাদের সমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনার অধিকারী হয়। সব শ্রেণি এবং পেশার বাক্তিদের মধ্যেই কর্মী ও সমর্থক থাকে। কর্মীরা দলের সব কর্সসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন আর সমর্থকরা তাদের কার্যক্রমে সম্মতি এবং পক্ষে ভোট দেন।
রাজনৈতিক দলগুলো পরিচালিত হয় গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে। সেই গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে—সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ঘুস, দুর্নীতি, দখলবাজি, মদ-মাদক-জুয়ার ব্যবসা, টাকা পাচার, টেন্ডারবাজির মতো কর্মকা্ল অপরাধ বলে বিবেচিত এবং এসব কাজে কেউ জড়িত হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের একটা অংশ এসবের সঙ্গে জড়িত এবং এসব অপরাধে সাধারণত কারো কোনো শাস্তি হয় না। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, দলের কোনো নেতা বা কর্মী এধরনের অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে দলের কর্মী এবং সমর্থকরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমর্থন করেন।
এ কারণে দেশে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট অগণিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজের সৃষ্টি হয়। দুর্নীতি এবং অপরাধ বৃদ্ধি পায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না। অথচ প্রতিটা রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকরা অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নন। তারা প্রতিবাদ করলে দলের সাধারণ সদস্য থেকে শুরু করে বড় নেতা কেউই দুর্নীতি-অপরাধ করতে বা রাজনীতির নামে সহিংসতার নির্দেশ দিতে পারেন না। কিন্তু দলীয় নেতা বা সদস্যদের এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর বেতনভোগী কর্মীর মতোই নীরব থেকে অপরাধ সমর্থন করেন!
রাজনৈতিক দল ছাড়া পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। রাজনীতির উদ্দেশ্য দলীয়ভাবে সংগঠিত হয়ে দেশ-জাতির কল্যাণ সাধন। বিরোধী দলে থেকে আন্দোলনের নামে সংঘাত-সহিংসতা বা ক্ষমতায় গিয়ে ঘুস-দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কোনোভাবেই রাজনীতির উদ্দেশ্য হতে পারে না। এসব হচ্ছে রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন। বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক দল এধরনের আচরণেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। কর্মী ও সমর্থকরাও তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেননি, যেটা তারা ইচ্ছা করলেই পারতেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থকরা সত্, নীতিবান এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের নেতা নির্বাচিত করা বা দলের দুর্বৃত্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার পরিবর্তে অন্ধভাবে সমর্থনের পুরানো রীতি অনুসরণ করছেন। ফলে দলগুলোর কিছু ব্যক্তি লাভবান হলেও দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বা দেশের জনগণের উন্নয়ন হওয়া অসম্ভব। দেশকে উন্নত করার জন্য প্রয়োজন সত্ এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।
দল বা সরকারের নেতত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা, জ্ঞান, দূরদর্শিতা—এসব যোগ্যতা না থাকার পরও নেতৃত্ব লাভ সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রবিরোধী। রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীরা দলীয় কর্মচারী নন, বরং স্বাধীন। রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধী নেতৃত্ব ও সদস্য মুক্ত করা এবং সত্-নীতিবান-দেশপ্রেমিক নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে তারা দেশকে উন্নত এবং আইনের শাসনে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।













