বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বিকাশের এই শুভলগ্নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আমরা আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন, যা আমাদের রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে গতকাল বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দূরদর্শী রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় দেশের জনগণ আনন্দিত ও আশান্বিত। আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন। প্রকৃতপক্ষে জাতীয় রাজনীতিতে তিনি একটি সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। তিনি সুদীর্ঘকাল দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রথম সারিতে অবস্থান করে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। বহুমাত্রিক রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে তিনি যে ধৈর্য, সংযম ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন, তা আধুনিক রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। সার্বজনীন রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি লাভ করেছেন সম্মান ও সমাদর। একজন সংস্কৃতিবান, মিষ্টভাষী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রধান ও অভিভাবক। তিনি সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক। দল ও মত নির্বিশেষে তিনি সকলের কাছে শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। তাই বর্তমানে জাতীয় জীবনে ঐক্য, সংহতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তাতে জনাব আলমগীরের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকের এই পদে আসীন হওয়া বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, উন্নত সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বাতাবরণ সৃষ্টিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সর্বদা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিশেষত দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাঁর সুচিন্তিত ও দিকনির্দেশনামূলক ভূমিকা প্রত্যাশিত। তিনি নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সমর্থ হবেন বলে আমরা কামনা করি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দেশের প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে তাঁর অভিজ্ঞতা হবে সহায়ক ও পাথেয়স্বরূপ। দেশের সুশীল সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তিনি গণতান্ত্রিক আদর্শ জাগ্রত রাখতে সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবেন বলে আমরা দৃঢ় আশা রাখি।
নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সাফল্যময় কার্যকালের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি। দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে এক সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবেন, এই প্রত্যাশাই রইল। আবারও অভিনন্দন নবনির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।













