বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও আশপাশের অঞ্চলে নির্মাণ খাতের মানোন্নয়ন, পেশাগত সহযোগিতা ও নিরাপদ নির্মাণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নির্মাণকাজের গুণগত মান, নিরাপত্তা, টেকনিক্যাল জ্ঞান ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরায় ‘ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন’ কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি নির্মাণ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার—উভয় পক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইঞ্জিনিয়ারদের পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও তদারকির পাশাপাশি ঠিকাদারদের বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয় হলে নির্মাণকাজের মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
সভায় বসুন্ধরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইউনিটি (বি ই ইউ)-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিয়ামুল হক নিলয়সহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। অন্যদিকে ঠিকাদার সংগঠন ‘ইমারত নির্মাণ-শ্রমিক ইউনিয়ন’ সংগঠনের সভাপতি হাসান হিরু, কার্যকরী সভাপতি মাহবুব শরীফ এবং আলমগীর হোসেন সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পারস্পরিক আস্থা, জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বসুন্ধরায় নির্মাণ খাতে আরও মানসম্মত, নিরাপদ ও পেশাদার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব
বিইইউ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, সংগঠনটি শুধু নিজেদের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নির্মাণ খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের সুযোগ ও তথ্য বিনিময়, টেকনিক্যাল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, দক্ষ ঠিকাদারদের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারদের যোগাযোগ তৈরি এবং নির্মাণকাজের মানোন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদের যৌথভাবে একটি ভালো নির্মাণমান বা ‘স্ট্যান্ডার্ড’ তৈরির উদ্যোগ। কোয়ালিটি, নির্মান সেফটি, কাজের ওয়ার্কম্যানশিপ, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে ভালো চর্চা নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, বসুন্ধরায় নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে একটি উন্নত ও পেশাদার সংস্কৃতি গড়ে তোলা গেলে এর সুফল শুধু ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ভবনের মালিক, ক্লায়েন্ট, শ্রমিকসহ নির্মাণ খাতের সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।
বিইইউ -এর সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতার সম্পর্ক নয়, সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো—ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান, ঠিকাদারদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পারস্পরিক আস্থাকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালো নির্মাণমান তৈরি করা।”
সভায় ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পারস্পরিক আস্থা, জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বসুন্ধরায় নির্মাণ খাতে আরও মানসম্মত, নিরাপদ ও পেশাদার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।












