লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪৮ গ্রাহকের ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী। এ ঘটনায় মামলার মূল আসামি মো. নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই জানায়, গতকাল শনিবার লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) তাসলিমা ইসলামের আদালতে নাছির উদ্দিন দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নাছির উদ্দিন ২০১৯ সাল থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির লক্ষ্মীপুরের মিরিকপুর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সহযোগী হিসেবে মো. শহিদুল্লাহ প্রকাশ জিয়াকে নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা দুজন যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে জমা নেওয়া টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।
গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন কিংবা হিসাব হালনাগাদ করতে গেলে ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে তাদের ভুয়া স্লিপ, হাতে লেখা স্লিপ ও ভুয়া বায়োমেট্রিক ফিক্সড ডিপোজিট স্লিপ দেওয়া হতো। এভাবে ৪৮ গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে গ্রাহকদের চাপের মুখে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।
পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটির নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত করা হয়েছে। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী সময়ে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন
এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ওই বছরের ৩ আগস্ট নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে প্রায় এক বছরেও মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালী জেলার ওপর ন্যস্ত করেন। এরপর পিবিআইয়ের এসআই মো. কামাল আব্বাস তদন্ত শুরু করেন।
পিবিআই জানায়, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে আদালতের মাধ্যমে নাছির উদ্দিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন।
পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটির নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত করা হয়েছে। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী সময়ে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন।
মামলায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।













