মাদকের ভয়াল থাবা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা, বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করা এবং সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও সচেতন করে তুলতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ হাজার অভিভাবককে শুভেচ্ছাপত্র দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এসব শুভেচ্ছাপত্রের মাধ্যমে।
আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট ৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৫৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছয়টি কলেজ ও পাঁচটি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৯ হাজারের বেশি অভিভাবকের কাছে শুভেচ্ছাপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মাদক শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবনকেই বিপন্ন করে না; এর প্রভাব পরিবার ও সমাজেও পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধেও অভিভাবকদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় সামনে রেখেই কর্মসূচিটি হাতে নেওয়া হয়েছে
সকাল ৭টায় উপজেলার মুন্সীগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, মুন্সীগঞ্জ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আনারুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, সদস্যসচিব আল ইমরান রাসেল, আলমডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসনাত রিংকু, সদস্যসচিব মাহমুদুল হক তন্ময়, নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল হক, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজল রহমান, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাছিদুল ইসলামসহ শিক্ষকরা।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে জেলা, উপজেলা, পৌর, কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিভাবকদের হাতে শুভেচ্ছাপত্র পৌঁছে দেন।
আয়োজকরা বলছেন, মাদক শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবনকেই বিপন্ন করে না; এর প্রভাব পরিবার ও সমাজেও পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধেও অভিভাবকদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় সামনে রেখেই কর্মসূচিটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সচেতন মহলকে সঙ্গে নিয়ে সমাজের নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বন্ধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেক সচেতন মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।













