সৌদি আরব সুদানের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) কর্তৃক একটি সামরিক হাসপাতাল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ত্রাণ বহর এবং বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক বহনকারী একটি বাসে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শনিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
খবরে বলা হয়, উত্তর ও দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলে অবস্থিত আল-কুয়েইক সামরিক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন ত্রাণ স্থাপনায় চালানো এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত কয়েক ডজন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি মানবিক ত্রাণ বহর ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) পরিবেশিত এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে এবং একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেসামরিক নাগরিক এবং ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় প্রণীত প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করে।
সৌদি আরব আরএসএফকে অবিলম্বে এ ধরনের লঙ্ঘন বন্ধ করার এবং মানবিক সহায়তা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন এবং ২০২৩ সালের মে মাসে স্বাক্ষরিত ‘সুদানে বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষা সংক্রান্ত জেদ্দা ঘোষণা’-এর আওতায় গোষ্ঠীটির দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া সৌদি আরব সুদানের ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং দেশটির বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে বলে এসপিএ জানায়।
বিবৃতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ অস্ত্র, ভাড়াটে যোদ্ধা ও বিদেশি যোদ্ধাদের প্রবাহের বিরুদ্ধেও সতর্কতা জানানো হয়। বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড সংঘাত দীর্ঘায়িত করছে এবং কিছু পক্ষ রাজনৈতিক সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে সুদানের জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ (এমডব্লিউএল)ও আরএসএফের ত্রাণ বহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এমডব্লিউএলের মহাসচিব মোহাম্মদ আল-ইসা এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ বিবৃতি প্রকাশ করে।
তিনি বেসামরিক নাগরিক, ত্রাণ সংস্থা এবং মানবিক কর্মীদের ওপর সব ধরনের হামলা প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানিয়ে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনগণের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আল-ইসা সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেদ্দা ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়া মিসর, কাতার ও কুয়েতও কর্দোফান অঞ্চলে আরএসএফের হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মানবিক খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা যেন টেকসইভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছায়—সে বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েত এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি তাদের কঠোর বিরোধিতা প্রকাশ করে ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।













