চুয়াডাঙ্গায় হেরোইন ও প্যাথিডিন ইনজেকশন উদ্ধারের এক মামলায় আশাদুল হক মিন্টু (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও এক মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) সত্যব্রত শিকদার এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু চুয়াডাঙ্গা শহরতলির দৌলতদিয়াড় চুনুরীপাড়া এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ দৌলতদিয়াড় গ্রামের একটি ব্রিজের নিচে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মিন্টু পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে।
আটকের পর ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মিন্টুর শরীর তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেটে ১৩৫ গ্রাম হেরোইন এবং বাম পকেট থেকে ১৮টি প্যাথিডিন ইনজেকশনের অ্যাম্পুল পাওয়া যায়। জব্দতালিকায় উদ্ধার হওয়া হেরোইনের মূল্য ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ইনজেকশনগুলোর মূল্য ১ হাজার ৮০০ টাকা উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের অভিযানের পর এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে মামলার বিচারকাজ শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত মিন্টুকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি মানাজার আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মামলাটির রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফজলে রাব্বী সাগর জানান, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।













