মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে আসাদ উল্লাহ (৩০) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভিকটিম ছাত্র’র মা সিংগাইর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। এর আগে সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খাসের চর মাহমুদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী ছাত্র’র মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আসাদ উল্লাহ বোডিংরুমে ঘুমন্ত শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন। পানি খাওয়ার কথা বলে শিশুটি পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পায়। ভয়ে শিশুটি তার পরিবারকে জানালে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ওইদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আকরাম হোসেন,এখলাছ মাদবর, মাছি ও মতিনসহ বেশ কয়েকজন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে অভিভাবকেরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশসহ ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে তার শাস্তি দাবী করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আসাদ উল্লাহ বলেন,ওই সময় আমি ঘুমে ছিলাম। শিক্ষার্থীর কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আকরাম হোসাইন বলেন,যে সমস্ত ছাত্ররা এ বোর্ডিংয়ে অবস্থান করে তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আমরা শুক্রবার বসবো। ওই শিক্ষক দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।
খাসেরচর মাহমুদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক বলেন,শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে বসার কথা আছে। আমি পরিচালককে বলেছি, যেহেতু উনাকে নিয়ে একটা অভিযোগ ওঠেছে যদি অপরাধী হয় আরেকজন ঠিক করে ওই হাফেজ সাহেবকে যেন বিদায় করে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, ছাত্রের মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।